দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি, নষ্ট শৌচাগার, পানির সমস্যা, দীর্ঘদিন জাহাজে আটকে থাকা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিতে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সামরিক সদস্যের ওপর চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটির কয়েকজন নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছেন। একজন নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার পর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির কারণ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েন করা হলেও ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার আগে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। মে মাসে মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। জাহাজটি কবে দেশে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, নাবিকরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, পানির দূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকের নিরাপত্তা সমস্যা এবং ডাক সরবরাহে বিঘ্নের মতো সমস্যার মুখে রয়েছেন।
আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গ্যালেগো কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলকে জাহাজটিতে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্তের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দরে না ভেড়ানো এবং জাহাজ থেকে নামার সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক নাবিক তাজা খাবার পাচ্ছেন না। এক নাবিকের স্বজন দাবি করেছেন, মোতায়েনের সময় ওই নাবিকের প্রায় ২৯ কেজি ওজন কমে গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান মাইক লেভিন অভিযোগ করেছেন, জাহাজে ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ লন্ড্রি ব্যবস্থা, দীর্ঘ সময় গরম পানি না থাকা এবং প্রয়োজনীয় সাবান, ডিওডোরেন্ট ও টুথপেস্টের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো সময় খাবারের পরিমাণও অত্যন্ত কম ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তবে মার্কিন নৌবাহিনী এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। যুদ্ধের কারণে প্রচলিত সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেও জাহাজে পরিষ্কার পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথও নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিটি জাহাজ ও নাবিককে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ৯৫৬ জন নাবিকের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যান্য শাখার তুলনায় নৌবাহিনীর জাহাজে থাকা সদস্যদের মধ্যে গুরুতর মানসিক চাপের হার বেশি। গবেষণায় জাহাজের বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশ, অতিরিক্ত শব্দ, কঠোর কর্মসূচি এবং পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/